চলতি বছরে ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে দেশের শিশুরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক ডেঙ্গু সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ০ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৫৪ শিশু ডেঙ্গুতে মারা গেছে। যা মোট মৃত্যুর ১৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৩৬৬ শিশু, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ১৭ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ হার চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা ও শিশুদের বিশেষ ঝুঁকিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
কেন শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি- স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় ডেঙ্গুর লক্ষণ দ্রুত জটিল রূপ নিতে পারে। যেমন- উচ্চ জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হওয়া, বমি ও ডিহাইড্রেশন, রক্তপাতের ঝুঁকি। প্লেটলেট দ্রুত কমে যাওয়া এসব উপসর্গ শিশুদের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত দ্রুত দেখা দেয়, যা দেরি করলে জীবনঘাতী হতে পারে।
হাসপাতালে চাপ ও চিকিৎসা সংকট
বছরের বিভিন্ন সময়ে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোর হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে শিশু রোগীর ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে আইসিইউ সাপোর্ট, স্যালাইন এবং বেড সংকটের কথাও জানিয়েছে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকরা মনে করেন, দ্রুত পরীক্ষা ও সঠিক লিকুইড ম্যানেজমেন্টই শিশু রোগীর ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে কার্যকর।
এডিস মশার বিস্তার এবং পরিবারভিত্তিক ঝুঁকি
ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। ফলে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শহরের আবাসিক এলাকা, স্কুল-কলেজপাড়া ও ঘন বসতি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
বাড়ির বারান্দা, ছাদ, ড্রাম, ফুলের টব এসি ট্রে, ফ্রিজের পিছনের পানি এসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার না হলে শিশুদের সংক্রমণ ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
অভিভাবকদের জন্য সতর্ক করে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন- শিশু জ্বরে আক্রান্ত হলে অবহেলা না করে দ্রুত ডেঙ্গু টেস্ট করা। শিশুকে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খাওয়ানো। অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথার ওষুধ নিজে থেকে না দেওয়া। প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ওষুধ না দেওয়া। মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে মশারি ও রিপেলেন্ট ব্যবহার করা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। তাই ঘরে মশা নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ এবং আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণে থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply