ভোলার চরপাতায় নিভে গেল মায়ের কোলের আলো। মাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য দিয়ে অজ্ঞান করে সাড়ে তিন মাসের জিদনীকে নিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
একজন মা অচেতন হয়ে পড়ে আছেন হাসপাতালের শয্যায়। তার কোলে থাকার কথা ছিল সাড়ে তিন মাসের শিশু জিদনী। কিন্তু সেই কোল এখন শূন্য।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের চরপাতা গ্রামের গৃহিণী সুমাইয়া বেগম তার সাড়ে তিন মাস বয়সী মেয়ে জিদনীকে নিয়ে পাশের মালেরহাট কমিউনিটি ক্লিনিকে টিকা দিতে যাচ্ছিলেন। প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক একটি সকাল। কিন্তু সেই স্বাভাবিকতার আড়ালেই ওঁত পেতে ছিল দুর্বৃত্তরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, পথে সুমাইয়াকে টাকা দেওয়ার কথা বলে কাছে ডাকে কয়েকজন। এরপর তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে ফেলে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মা। সেই সুযোগে শিশু জিদনীকে কোলে নিয়ে অটোরিকশায় করে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা।
ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পরও সুমাইয়ার জ্ঞান ফেরেনি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের বিছানায় অচেতন মায়ের নিথর শরীর, আর বাইরে স্বজনদের উৎকণ্ঠা—কোথায় আছে জিদনী? কেমন আছে সে?
সুমাইয়া বেগম ও আবদুর রব দম্পতির তৃতীয় সন্তান জিদনী। তাদের ঘরে আরও এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। মাইকিং করা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়, বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে পরিবার।
অসহায় মা অচেতন, শিশু নিখোঁজ ভোলার এই ঘটনায় এখন একটাই চাওয়া জিদনী ফিরে আসুক মায়ের বুকে।

Leave a Reply