উচ্চ পণ্যমূল্য: শুধু অর্থনৈতিক চাপই বাড়ায় না, ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয় শিশুদের

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধির প্রভাব এখন সরাসরি এসে পড়ছে শিশুদের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান যত বাড়ছে, শিশুদের পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক বিকাশ তত বেশি সংকটে পড়ছে।

দাম বাড়ায় অনেক পরিবার আগের মতো খাবারের মান বজায় রাখতে পারছে না। ডাল, ডিম, মাছ, দুধ শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অনেকগুলোই এখন ক্রমশ নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে করে খাবারের কাটছাঁটের তালিকা লম্বা হচ্ছে। ফলে শিশুদের অপুষ্টি, রোগপ্রবণতা, শারীরিক দুর্বলতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

শুধু খাবার নয়, উচ্চ ব্যয় সামাল দিতে অনেক পরিবারকে পড়াশোনার খরচ কমাতে হচ্ছে। কোচিং, স্কুলের অতিরিক্ত কার্যক্রম, বই, খাতা সবই কাটছাঁটের তালিকায়। আবার কম আয়ের পরিবারগুলোতে বাবা–মা অতিরিক্ত সময় কাজ করায় শিশুর প্রতি প্রয়োজনীয় যত্ন কমে যাচ্ছে, যা শিশুদের মানসিক সুস্থতাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন-

বাড়তি মূল্যস্ফীতিতে শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ কমছে।

অপুষ্টি থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে।

অর্থকষ্টে শিক্ষাজীবনে ব্যাঘাত তৈরি হচ্ছে।

বাবা–মায়ের মানসিক চাপ শিশুর মানসিক বিকাশেও প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে, শহর ও গ্রামে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ওপর এই চাপ আরও গভীর। অনেক শিশুকে ছোটবেলাতেই ঘরের কাজে বা আয়মুখী কাজে সহায়তা করতে হচ্ছে, যা তাদের শিক্ষা ও শৈশব দুটোকেই সীমাবদ্ধ করছে।

উচ্চ পণ্যমূল্য শুধু পরিবারের অর্থনৈতিক চাপই বাড়ায় না, শিশুদের ভবিষ্যৎকেও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। শিশুর বেড়ে ওঠা, শেখা, সুস্থ থাকা সবকিছুই টালমাটাল হয়ে পড়ে। তাই পরিবার, সমাজ ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শিশুদের ওপর এই অর্থনৈতিক প্রভাব থামানো সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.