নিঃশব্দে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশবের ঐতিহ্যবাহী সব খেলা

এক সময় বিকেল নামলেই পাড়ার মাঠ ভরে যেত শিশুদের কোলাহলে। লাটিম ঘোরানো, কানামাছি, গোল্লাছুট কিংবা দাড়িয়াবান্ধা এসব খেলাই ছিল শৈশবের আনন্দ। কিন্তু সময় বদলেছে। ডিজিটাল যুগে সেই ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

স্মার্টফোন, ট্যাব আর অনলাইন গেমের দখলে চলে গেছে শিশুদের অবসর সময়। মাঠের বদলে ঘরের ভেতরেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে তাদের খেলাধুলা। শহরের অনেক শিশুই আর জানে না দাড়িয়াবান্ধা বা গোল্লাছুট কীভাবে খেলতে হয়। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো।

অভিভাবকদের একটি অংশ বলছেন , নিরাপত্তাহীনতা ও পড়ালেখার চাপের কারণে শিশুদের বাইরে খেলতে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার কেউ কেউ স্বীকার করছেন, সহজ সমাধান হিসেবে মোবাইল ফোনই এখন শিশুকে ব্যস্ত রাখার উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। এসব খেলায় শিশুদের শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক আচরণ, দলগত কাজ ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি হয়। দৌড়ঝাঁপ, হাসি–আনন্দের মধ্য দিয়ে শিশু মানসিক চাপমুক্ত থাকতে শেখে, যা ডিজিটাল গেমে সম্ভব নয়।

গ্রামাঞ্চলে এখনও কোথাও কোথাও ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর চর্চা দেখা গেলেও শহুরে জীবনে তা প্রায় বিলুপ্ত। খেলার মাঠ কমে যাওয়া, ব্যস্ত জীবনধারা আর প্রযুক্তিনির্ভরতা সব মিলিয়ে শিশুরা হারাচ্ছে প্রকৃত শৈশবের স্বাদ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিবার, স্কুল ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া শিশুদের খেলাধুলা টিকিয়ে রাখা কঠিন। তারা যদি শিশুদের মাঠমুখী না করে তাহলে এই ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ভবিষ্যতে শুধু গল্পেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। এখনই উদ্যোগ না নিলে ডিজিটাল পর্দার আড়ালেই হারিয়ে যাবে শৈশবের চিরচেনা সেই খেলাধুলা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.