দেশে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে সহিংসতার শিকার হয়েছেন বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশু। হত্যা, ধর্ষণ থেকে শুরু করে আত্মহত্যা। বিভিন্ন ঘটনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রকাশিত সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মার্চ মাসে মোট ১৯০ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসে ১৯০ জন নারী ও কন্যা (যাদের বয়স ১৮ বছরের কম) নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ৩৫ জন কন্যাসহ মোট ৫৭ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পরে হত্যার শিকার হয়েছে পাঁচজন। এ ছাড়াও ছয়জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে ১২ জন। বিভিন্ন কারণে আটজন কন্যাসহ মোট ৪৭ জন নারী হত্যার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ১৭ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঘটনাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। মার্চে অ্যাসিড দগ্ধের শিকার হয়েছে একজন নারী। অগ্নিদগ্ধ হয়েছে তিনজন। এর মধ্যে অগ্নিদগ্ধের কারণে মৃত্যু হয়েছে একজনের। যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে পাঁচজন। এর মধ্যে যৌতুকের কারণে হত্যার শিকার হয়েছে তিনজন। পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে দুজন। গৃহকর্মী হত্যার ঘটনা ঘটেছে একটি।
মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যার ঘটনাও উদ্বেগজনক। মার্চে ১৪ জন নারী ও কন্যার আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আত্মহত্যার প্ররোচনার শিকার পাঁচজন। এ ছাড়াও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে একজন। দুজন কন্যাসহ পাঁচজন অপহরণচেষ্টার শিকার হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন নয়, প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সামাজিক সচেতনতা। নইলে এ ধরনের সহিংসতা থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।

Leave a Reply