রমজান এলেই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে। কখনও ক্লাসের সময় কমানো, কখনও সকালে আরও এগিয়ে আনা। রোজার মাসের বাস্তবতা বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রতি বছরই। তবে এ বছর ভিন্ন চিত্র। রমজান মাসে প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে ১৯ ফেব্রুয়ারি বা প্রথম রোজা থেকেই শুরু হয়েছে ছুটি। স্কুল বন্ধ থাকলেও রমজান মানেই পরিবারের দৈনন্দিন রুটিনে বড় পরিবর্তন, আর তার প্রভাব পড়ছে শিশুদের ঘুম ও পড়াশোনায়।
রমজানে সেহরির জন্য গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠতে হয়। অনেক সময় শিশুরাও পরিবারের সঙ্গে জেগে থাকে। আবার তারাবির নামাজ, ইফতার আয়োজন কিংবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো। সব মিলিয়ে রাতের ঘুম দেরিতে হয়। ফলে সকালে ঘুম ভাঙে দেরিতে, কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রাম হয় না। নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুলপড়ুয়া শিশুদের প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ঘুম কম হলে মনোযোগে ঘাটতি, খিটখিটে মেজাজ, এমনকি স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় একধরনের ঢিলেমি চলে আসে। অনেক পরিবারেই নির্দিষ্ট রুটিন ভেঙে যায়। অথচ দীর্ঘ ছুটির সময় পুরোপুরি পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পরে স্কুল খোলার পর শিশুদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়। তাই অভিভাবকদের উচিত রমজানেও একটি সহজ ও নমনীয় রুটিন তৈরি করা। সকাল বা দুপুরের শুরুতে পড়ার সময় নির্ধারণ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তখন শিশুর মন তুলনামূলক সতেজ থাকে। একটানা দীর্ঘ সময় পড়ার চাপ না দিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের ছোট সেশন করে পড়াশোনা করানো যেতে পারে।
খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সেহরি ও ইফতারে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার নিশ্চিত করলে শিশু দিনের বেলায় ক্লান্তি কম অনুভব করে। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে ফল, শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা ভালো।
রমজান আধ্যাত্মিক অনুশীলনের মাস হলেও শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল বন্ধ থাকলেও নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার ও পড়াশোনার চর্চা বজায় রাখতে পারলে শিশুরা ছুটির সময়টিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে পারবে। সচেতন অভিভাবকত্বই পারে রমজানকে শিশুদের জন্য শৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলার এক সুন্দর সুযোগে পরিণত করতে।

Leave a Reply