সাহরি ও ইফতারে শিশু রোজাদারদের সুষম খাবার

রমজান মাসে বড়দের পাশাপাশি অনেক শিশুও রোজা রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে তাদের শরীরে শক্তি ও পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই সাহরি ও ইফতারে কী ধরনের খাবার দেওয়া হচ্ছে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। সঠিক খাবার নির্বাচন করলে শিশুরা সারাদিন সতেজ থাকতে পারে এবং অপুষ্টির ঝুঁকিও কমে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাহরিতে এমন খাবার দিতে হবে যা ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। ভাত বা রুটি, ডাল, ডিম, দুধ, সবজি ও ফল সাহরির জন্য ভালো খাবার হতে পারে। বিশেষ করে ডিম ও দুধ শিশুদের শরীরে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম যোগায়, যা তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ও শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করে।

এছাড়া সাহরিতে বেশি তেল-মসলাযুক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার না দেওয়াই ভালো। এতে শিশুর হজমের সমস্যা হতে পারে এবং সারাদিন অস্বস্তি অনুভব করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করা,শরবত খাওয়া খুব জরুরি, যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়।

ইফতারের সময়ও শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খেজুর, ফল, ছোলা, দই, সবজি, ডিম কিংবা হালকা ঘরোয়া খাবার তাদের জন্য উপকারী। ফলের রস বা লেবুর শরবত শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

তবে ইফতারে অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, সফট ড্রিংকস বা অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। এসব খাবার শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং নিয়মিত খেলে অপুষ্টি বা হজমের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রমজানে শিশুদের সুস্থ রাখতে হলে সাহরি ও ইফতারে সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সচেতনভাবে খাবার নির্বাচন করলে শিশুদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি কমবে এবং তারা সুস্থভাবে রোজা পালনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.