শিশুর নিরাপত্তা শুধু ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। তাদের প্রতি প্রতিটি মুহূর্তের নজরদারি, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতাই পারে অমূল্য জীবন রক্ষা করতে। অভিভাবকের যত্নই শিশুর জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিভে গেল দুই শিশুর প্রাণ। নবগঙ্গা নদীর পানিতে ডুবে মারা গেছে পাঁচ বছরের তাসমিম ও সাড়ে তিন বছরের আরিয়ান।
নিহত তাসমিম তারা মিয়ার মেয়ে এবং আরিয়ান সোহেল মিয়ার ছেলে। দুপুরে তারা তিন বন্ধু মিলে নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে এক শিশু বাড়ি ফিরে আসে, কিন্তু তাসমিম ও আরিয়ান আর ফেরেনি। কিছুক্ষণ পর স্বজনরা নদীর তীরে খুঁজতে গিয়ে তাদের মরদেহ দেখতে পান। পরে এলাকাবাসী মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
রাজনগর গ্রামের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল অভিভাবক নজরদারির অভাবে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের জীবন। ব্যস্ততার ফাঁকে তারা যখন এক মুহূর্তের জন্যও চোখ সরিয়ে নেয়, তখনই ঘটে যায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।
শিশুদের একা বাইরে যেতে না দেওয়া, নদী-পুকুরের আশপাশে খেলতে বা গোসল করতে না পাঠানো। এসব সাধারণ সতর্কতাই বাঁচাতে পারে একটি জীবন। অভিভাবকদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতাই হতে পারে শিশুর নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ঢাল।

Leave a Reply