মায়ের দুধে ক্ষতিকর ইউরেনিয়াম: আতঙ্ক নয়, তথ্য জরুরি

ইউরেনিয়াম একটি প্রাকৃতিক রেডিওঅ্যাকটিভ উপাদান, যা পৃথিবীর মাটি, পানি ও পাথরে অতি ক্ষুদ্র মাত্রায় থাকে। সাধারণত ভূগর্ভস্থ পানিতে এর উপস্থিতি দেখা যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের বিহারে মায়ের দুধে ইউরেনিয়াম পাওয়া যাওয়ার ঘটনাটি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সম্প্রতি পাটনা মহাবীর ক্যানসার সংস্থা ও গবেষণাকেন্দ্র, লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি ও দিল্লির এইমস- এই তিন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা বিহারে এ বিষয়ে গবেষণা চালান। প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, বিহারের স্তন্যদানকারী মায়েদের সব নমুনাতেই ইউ-২৩৮ শনাক্ত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাওয়া মাত্রা অত্যন্ত কম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ সীমার অনেক নিচে। পানিতে যেখানে নিরাপদ সীমা ৩০ পিপিবি, সেখানে মায়ের দুধে পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ৫ পিপিবি, যা তুলনামূলকভাবে খুবই নিরাপদ।

গবেষকেরা জানাচ্ছেন, শিশুদের দেহে ইউরেনিয়াম নিষ্কাশনের ক্ষমতা কম হওয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি থাকলেও বাস্তব প্রভাব অত্যন্ত ক্ষীণ। তাই দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার কোনো কারণ নেই। বরং মায়ের দুধের অগণিত উপকারিতা সামান্য পরিবেশগত এক্সপোজারের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ভুল ব্যাখ্যা বা আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সঠিক তথ্য ও নিয়মিত বায়ো মনিটরিং। নবজাতকের জন্য মায়ের দুধই এখনো ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ পুষ্টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.