পড়াশোনার ব্যাপক ঘাটতি নিয়েই পরবর্তী শ্রেণিতে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

করোনাকালীন দীর্ঘ স্কুলবন্ধের পর থেকেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিখন ঘাটতির যে ধস নেমেছিল, ২০২৫ সালেও তা কাটেনি। বরং আরও গভীর হয়েছে। মহামারির সময় টানা দেড় বছরের বেশি সময় শ্রেণিকক্ষহীন শিক্ষার্থীরা যে মৌলিক অক্ষমতা নিয়ে ফিরেছিল, সাম্প্রতিক বছরের ক্লাস কম হওয়া সেই ঘাটতিকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে।

ছুটি, শিক্ষক আন্দোলন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পাঠ্যবই হাতে পেতে দেরি সব মিলিয়ে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে শেখার সময়েই বড়সড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বলছে বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস হয়েছে ১০০ দিনেরও কম। এই ঘাটতি শুধু পরীক্ষার ফল নয়, ভবিষ্যতের দক্ষতাকেও করছে প্রশ্নবিদ্ধ।

প্রাথমিক স্তরে ছুটি বাদে অবশিষ্ট থাকা ১৮৫ দিনের মধ্যে শিক্ষক আন্দোলন, পরীক্ষা ও দুর্যোগে ক্লাস হয়েছে মাত্র ৯০ দিনের মতো। মাধ্যমিকেও একই চিত্র। হাজিরা খাতায় দিনের সংখ্যা বেশি হলেও প্রকৃত পাঠদান হয়েছে সর্বোচ্চ ৯৫-১০০ দিন। বেসরকারি এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়গুলোতে তো পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ পুরোদমে ক্লাস হয়েছে ৬৫-৭০ দিনের মতো।

শিক্ষার্থীরা জানায়, অনেক দিনই শুধু উপস্থিতি নেওয়া হয়, ক্লাস হয় না। শিক্ষকরা আন্দোলন ও প্রশাসনিক ব্যস্ততায় পড়ানোর সুযোগ কম পান। হাতে বই পৌঁছাতে দেরিতেও পড়াশোনায় ছন্দপতন ঘটে। অভিভাবকদের উদ্বেগ প্রাইভেট টিউশনি ছাড়া সন্তানরা শেখার সুযোগ পাচ্ছে না।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, বছরের অন্তত ১৬০-১৮০ দিন মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু মুখস্থনির্ভর ক্লাস নয়; শিশু যেন নিজে বুঝে শিখতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি, সময়মতো বই বিতরণ এসবই শিখন ঘাটতি কমানোর প্রথম শর্ত।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিখন ঘাটতি নিয়ে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনে সক্ষমতা হারায়। অযোগ্যতার চাপ বাড়ে প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের ওপর। বছরের পর বছর ক্লাস না হওয়া মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষতার সংকট তৈরি হওয়া।

দীর্ঘমেয়াদে এই শিখন ঘাটতি কমাতে তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। না হলে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরই দাঁড়াবে অদক্ষ ভবিষ্যতের হুমকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.