দুপুরের ব্যস্ত নগরী। স্কুল ছুটি হয়েছে, অন্য দিনের মতোই বাড়ি ফেরার পথে এক কিশোর। কিন্তু কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সবকিছু বদলে যায়। রাজধানীর খিলগাঁওয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে অপহৃত হয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফফান সাঈদ।
অন্যদিকে প্রতিদিনের মতো অফিস শেষ করে সচিবালয় থেকে নামছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হঠাৎ করেই প্রটোকল ভেঙে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে ছুটে আসেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আবু সাঈদ। স্কুল থেকে ফেরার পথে ছেলে অপহরণ হয়েছে, মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছেলেকে উদ্ধারের অনুরোধ জানায় ওই কর্মকর্তা। অসহায় বাবার আর্তিতে অপহৃত আফফানকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর সেখান থেকেই শুরু হয় এক তড়িৎ অভিযান। পরবর্তীকালে খিলগাঁও এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এর আগে রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর এলাকায় স্কুল থেকে ফেরার পথে আফফানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
তাৎক্ষণিকভাবে রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলমকে শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্দেশ পাওয়ার পরই শুরু হয় গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল আনুমানিক পৌনে ৫টার দিকে রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। পরে খিলগাঁওয়ের জোরপুকুরপাড়, চামেলীবাগ এলাকার ১৬ নম্বর একটি নির্মাণাধীন ভবনের সপ্তম তলা থেকে উদ্ধার করা হয় আফফানকে।
উদ্ধারের পর তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আফফান রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
উদ্ধারের পর আফফান জানায়, স্কুল থেকে ফেরার পথে পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি তার পথরোধ করে। পরে তাকে জোর করে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। পুরো সময়টাই সে আতঙ্কে ছিল।
তবে উদ্ধার হলেও এখনও পুরোপুরি কাটেনি তার মানসিক ভয়। পরিবার জানায়, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে ভীত রয়েছে আফফান।
রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম জানান, ঘটনাস্থল থেকে অপহরণকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ছেলেকে দ্রুত উদ্ধারে তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আফফানের পরিবার। তবে রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় দিনের আলোয় স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অভিভাবক মহলে। প্রশ্ন উঠছে, কতটা নিরাপদ আমাদের সন্তানদের প্রতিদিনের পথচলা? এখন সবার দৃষ্টি অপরাধীরা কত দ্রুত আইনের আওতায় আসে।

Leave a Reply