মশা নিয়ন্ত্রণে স্থবিরতা কাটিয়ে দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

শহরজুড়ে বেড়েছে মশার উপদ্রব। দিন-রাত সমান তালে মশার আক্রমণে অতিষ্ঠ নগরবাসী। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে অভিভাবকরা। কারণ মশা এখন শুধু অস্বস্তির নাম নয় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ভাইরাল জ্বরসহ নানা রোগের বাহক। আর এসব রোগে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে শিশুরাই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে তাদের জ্বর দ্রুত বাড়ে, পানিশূন্যতা তৈরি হয় এবং জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের প্রতিদিন বাইরে যেতে হয় সকাল-বিকাল দুই সময়েই এডিস ও কিউলেক্স মশার কামড়ের ঝুঁকিতে পড়ছে তারা।

মশা বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি, অপরিষ্কার ড্রেন-নালা, খোলা জায়গায় ফেলে রাখা বর্জ্য, নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি এসবই মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি করছে।
পাশাপাশি ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রমে স্থবিরতা। অনেক এলাকায় ফগিং, লার্ভিসাইডিং ও উৎসস্থল ধ্বংস কার্যক্রম আগের মতো নিয়মিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে মশার ঘনত্ব দৃশ্যমানভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধারাবাহিক অভিযান বন্ধ থাকলে মশা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, ঘরে মশারি, কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করেও পুরোপুরি সুরক্ষা মিলছে না। শিশুদের খেরা-ধুলা,ঘুম ব্যাহত হচ্ছে, পড়াশোনায় মনোযোগ কমছে, জ্বর-সর্দি বাড়ছে। ফলে শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনের প্রভাবই পড়ছে তাদের ওপর।

শিশু সুরক্ষা ও করণীয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জরুরি।

পরিবারের করণীয়:
১. বাসা ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ।
২. শিশুদের ফুলহাতা পোশাক পরানো।
৩. মশারি ব্যবহার নিশ্চিত করা।
৪. জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

রাষ্ট্রীয় ও পৌর কর্তৃপক্ষের করণীয়:
১. নিয়মিত ও সমন্বিত ফগিং ও লার্ভিসাইডিং অভিযান পুনরায় জোরদার করা।
২. ড্রেন ও খাল পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা।
৩. ওয়ার্ডভিত্তিক নজরদারি টিম গঠন।
৪. স্কুল ও আবাসিক এলাকায় বিশেষ মশকনিধন কার্যক্রম চালানো।
৫. জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন জোরদার করা।

মশার উপদ্রব এখন জনস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ। আর শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অন্যতম অংশ। তাই স্থবিরতা কাটিয়ে দ্রুত সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.