শিশুদের গোপন ভয়

অন্ধকার নামলেই বুক ধড়ফড়, স্কুলের গেট দেখলেই অজানা আতঙ্ক, কিংবা নিজের ঘরেই লুকিয়ে থাকা ভয়। এমন অসংখ্য অনুভূতি প্রতিদিন চেপে রাখে শিশুরা। তারা সবসময় এসব ভয় প্রকাশ করতে পারে না। অনেক সময় ভাষাও খুঁজে পায় না। ফলে ভেতরে ভেতরে জমতে থাকে এক ধরনের নীরব চাপ, যা ধীরে ধীরে তাদের মানসিক বিকাশকে প্রভাবিত করে। চাইল্ড ইনফো বিডি ডটকমের এই বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে শিশুদের সেই গোপন ভয়, যা পরিবার বা সমাজের চোখ এড়িয়ে যায়।

অনেক শিশুর কাছে অন্ধকার শুধু আলোহীনতা নয়, বরং অজানা আতঙ্কের এক জগৎ। ঘুমাতে যাওয়ার আগে তারা বারবার চারপাশ দেখে নেয়, দরজা-জানালা ঠিক আছে কিনা নিশ্চিত হয়। তবুও মনে হয় কেউ যেন লুকিয়ে আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের কল্পনা শক্তি যত বাড়ে, ততই এই ধরনের ভয় গভীর হতে পারে। যদি পরিবারে নিরাপত্তার অনুভূতি কম থাকে, তাহলে অন্ধকারের ভয় আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, ঘরের ভেতরের আচরণও তৈরি করে এক ধরনের গোপন ভয়। অনেক শিশু বাবা-মায়ের বকুনি বা মারধরের ভয়ে নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রাখে। তারা ভুল করলে স্বীকার করতে চায় না, কারণ শাস্তির আশঙ্কা তাদের চুপ করিয়ে দেয়। এতে করে শিশুর আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং তারা ধীরে ধীরে নিজের ভেতরে গুটিয়ে যেতে থাকে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানসিক চাপে রূপ নিতে পারে।

স্কুলে যাওয়ার কথা শুনলেই কিছু শিশুর মুখ ভার হয়ে যায়। কারণ, সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করে বুলিংয়ের অভিজ্ঞতা। সহপাঠীদের কটূক্তি, ঠাট্টা বা শারীরিক নিগ্রহ সবকিছুই তারা চুপচাপ সহ্য করে। তারা মনে করে, অভিযোগ করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এই ভয় তাদের শেখার আগ্রহ কমিয়ে দেয়, এমনকি অনেক সময় স্কুলে যেতে অনীহাও তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোপন ভয়গুলো সহজে চোখে পড়ে না। তবে শিশুর আচরণে পরিবর্তন যেমন, চুপচাপ থাকা বা হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাওয়া, খাওয়া-ঘুমে সমস্যা, কিংবা অকারণে রেগে যাওয়া, চালাকি করা বা বোকা বোকা আচরণ করা এসবই হতে পারে ভয়ের সংকেত। তাই অভিভাবকদের উচিত শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, যাতে তারা নির্ভয়ে নিজের কথা বলতে পারে এবং নিরাপদ অনুভব করে।

শিশুরা সব ভয় ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না, কিন্তু তাদের আচরণেই লুকিয়ে থাকে সেই বার্তা। সময়মতো যদি সেই সংকেতগুলো ধরা যায়, তাহলে বদলে যেতে পারে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ। কারণ, প্রতিটি শিশু চায় এমন একটি পৃথিবী, যেখানে ভয় নয়, থাকবে নিরাপত্তা, আস্থা এবং ভালোবাসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.