৬ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অতিরিক্ত ভিড়, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা এবং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের অভাবে শিশুদের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফরের পরিচালক (হাসপাতাল) আবু হোসাইন মো. মঈনুল আহসান।

স্বাস্থ্য অধিদফরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে। গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। মৃত নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন। সদ্যজাত এসব শিশুর নামও রাখায় হয়নি। ফলে, মৃত শিশুদের তাদের মায়ের নামে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান।

ঘটনা তদন্তে দ্রুত ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি ৬ নবজাতকের মৃত্যুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি পায়। তদন্তে উঠে আসে, ভবনটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কক্ষটিতে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন না থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এছাড়া, ৯০০ বর্গফুটের ওই কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ৫০ জন) মানুষের উপস্থিতি ছিল। নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের কোনো সক্রিয় ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং দায়িত্বরত সেবিকাদের চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল।

পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ লঙ্ঘন করায় কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই নোটিশে। শোকজের জবাব পাওয়ার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

৭ জুন মৃত নবজাতকদের পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী আইনজীবী শিশির মনির জানান, আদ-দ্বীন হাসপাতালে মারা যাওয়া ৬ শিশুর পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দিতে সম্মত হয়েছে হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ। তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বারবারই সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছিলেন। এরই মধ্যে আইন পর্যালোচনা শেষে আজ হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.