সকালের আলোর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় একজন কর্মজীবী মায়ের দৌড়। নিজের সন্তানকে স্কুলের জন্য প্রস্তুত করা, ঘরের কাজ সামলে অফিসে পৌঁছানো, আবার দিনের শেষে শিশুকে কোলে নিয়ে বাড়ি ফেরা। সমাজের পরিবর্তিত বাস্তবতায় কর্মজীবী মায়েরা আজ পরিবার ও কর্মক্ষেত্র এই দুই দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাচ্ছেন। কিন্তু এই যাত্রা যতটা শক্তির, ততটাই চাপেরও।
বাঙালি পরিবারে এখনো সন্তানের যত্নের কাজকে মূলত মায়ের দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়। ফলে একজন কর্মজীবী মাকে অফিসের কাজ শেষ করে ঘরে ফিরে আবার দ্বিতীয় শিফট শুরু করতে হয়। দীর্ঘ সময়ের কর্মঘণ্টা, ট্রাফিকের চাপ, শিশুর প্রতি অপরাধবোধ, নিজের জন্য সময় না পাওয়া সবকিছু মিলিয়ে মানসিক চাপ বাড়ে। তবুও এই চাপের মধ্যেই মায়েরা সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে নিরলস চেষ্টা করে যান।
অনেক কর্মজীবী মা জানান, সন্তানের জন্য মানসম্মত ডে–কেয়ার, কর্মস্থলে শিশুবান্ধব নীতি বা নমনীয় সময় এগুলো থাকলে তারা আরও স্বস্তিতে কাজ করতে পারেন। বিশেষ করে প্রাথমিক বয়সের শিশুরা যখন মায়ের কাছাকাছি থাকতে চায়, তখন মা–শিশুর মানসিক সুস্থতার জন্য পরিবার ও কর্মস্থলের সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
কর্মজীবী মায়েরা শুধু পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করেন না, সন্তানের সামনে শক্ত, আত্মবিশ্বাসী এক রোল মডেলও হয়ে ওঠেন। তাদের সংগ্রাম আসলে হাজারো মেয়ের পথ তৈরি করে।
কর্মজীবী মায়ের প্রতিটি দিন চ্যালেঞ্জে ভরা, কিন্তু তার মধ্যেও রয়েছে সীমাহীন ভালোবাসা আর দৃঢ়তার গল্প। সেই গল্পই আমাদের সমাজকে বদলে দিচ্ছে একটি শিশু, একটি পরিবার, একদিনে একধাপ করে।

Leave a Reply