প্রেম, প্রতিশোধ নাকি মানসিক অন্ধকার

প্রেম, প্রতিশোধ না মানসিক অন্ধকার। জাবি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী বার্তা রাখল সমাজের জন্য।

সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে হত্যায় গড়ানো, এ কেবল একদিনের ক্ষোভ নয়, এক গভীর মানসিক শূন্যতার প্রতিফলন। সম্পর্ক ভাঙা, কষ্ট পাওয়া এগুলো জীবনেরই অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, সেই কষ্ট নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, আবেগের বিস্ফোরণকে সহিংসতায় রূপ দেওয়া যেন নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে। জগন্নাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়েদের হত্যাকাণ্ড সেই বাস্তবতারই ভয়ংকর এক উদাহরণ।

তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনাটি প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব থেকে ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো। একটি সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়া কি এতটাই অসহনীয় যে, কাউকে প্রাণ দিতে হবে? কোথায় হারিয়ে গেল সংযম, সহনশীলতা, কিংবা পরিবারের মানসিক সহায়তার জায়গা?

এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তরুণ সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, আবেগ নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং সামাজিকভাবে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা। ভালোবাসাকে এখনো শেখানো হয় “অধিকার” বা “অধিকার হারানোর ভয়” হিসেবে; তাই প্রত্যাখ্যান মানেই অপমান, আর অপমানের জবাব সহিংসতা।এর আগেও সমাজে এমন অনেক ঘটনার উদাহরণ আছে যার বর্ণনা আর টানলাম না।

তবে কেন এমন ঘটে, কীভাবে এমন মনস্তত্ত্ব তৈরি হয়। এই প্রশ্নের উত্তর না খুঁজলে এমন ঘটনা আবারও ঘটবে হয়তো আরও ভয়াবহভাবে, আমাদের আশেপাশেই। তাই প্রয়োজন প্রাইমারি থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, পারিবারিক আলাপচারিতায় খোলামেলা যোগাযোগ, এবং সমাজে প্রেম-সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে বুঝার পরিবেশ তৈরি করা।

অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি, কিন্তু তার চেয়ে জরুরি হলো এই বিকৃত মনস্তত্ত্বের উৎস খুঁজে সেটিকে থামানো, আজই, এখনই।

লেখক: রিমু সিদ্দিক
নারী, শিশু উন্নয়নকর্মী ও সাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published.