পৃথিবীকে বুঝার আগেই যে পৃথিবীর নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। কোনো অপরাধ না করেও দণ্ডিত। জন্ম নিয়েই হারিয়েছে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।মায়ের কোলে থাকার অধিকার।
আজ তার পাশে থাকতে পারত মায়ের উষ্ণ কোলে ঘুম, বাবার চোখে মায়ামাখা হাসি। প্রথম কান্নায় ভরে উঠতে পারত এক পরিবার, এক ঘর। অথচ নির্মম বাস্তবতা। জন্মের পরপরই সে পেয়েছে এক টুকরো চিরকুট, আর এক পৃথিবী ভরা একাকিত্ব।
এমনই করুন এক ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে। হাসপাতালটিতে এক নবজাতক কন্যাকে রেখে পালিয়ে গেছেন তার স্বজনরা।
তার পাশে ছিল শুধু একটি ছোট ব্যাগ… আর একটি চিরকুট।
চিরকুটে লেখা— “আমি একজন হতভাগী মেয়ে। পরিস্থিতির শিকার। বাচ্চা রেখে গেলাম, দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন। জন্ম তারিখ: ০৪-১১-২০২৫, আমি মুসলিম জাতির মেয়ে।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শিশুটিকে নবজাতক ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ এবং উক্ত চিরকুট পাওয়া যায়। বর্তমানে নবজাতকটি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছে।
ঘটনার পর হাসপাতালের অনেক নারী কর্মী ও দর্শনার্থী শিশুটিকে দত্তক নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এদিকে হাসপাতাল প্রশাসন শিশুটির স্বজনদের খোঁজে তৎপর হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে।
কিন্তু অজানার অন্ধকারে হারিয়ে গেছেন যেই মা তাকে খোঁজে কি হবে?তিনি হয়তো সামাজিক লজ্জা, না হয় বেঁচে থাকার যুদ্ধে সন্তানকে ফেলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এক টুকরো কাগজে লেখা কয়েকটি লাইন সমাজের সামনে রেখে গেছে অসংখ্য প্রশ্ন।
কেন এখনো নারীরা তাদের মাতৃত্ব লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়? কেন সমাজের চোখে “পরিস্থিতির শিকার” হওয়া মানেই দোষী ? অস্বীকার করার কি উপায় আছে? শিশুটি যে আমাদের ব্যর্থতাই প্রতীক!

Leave a Reply