দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েই চলছে। এই অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া, পরীক্ষার সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে যাওয়া, পথে-পথে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা। সব মিলিয়ে এক অস্থির সময় পার করছেন তারা। বিশেষ করে নগর এলাকায় বাস করা পরিবারগুলোর চাপ আরও বেশি। কারণ প্রতিদিনের যাতায়াত, কোচিং, স্কুল-কলেজের রুটিন সবকিছুই হঠাৎ থেমে যায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেই।
অভিভাবকদের অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক সহিংসতা আমাদের দেশের জন্য নতুন কিছু নয়, কিন্তু এর সবচেয়ে বড় আঘাত পড়ে শিশু-কিশোরদের ওপর। সবচেয়ে বড় ভয় নিরাপত্তার ভয়ে। এছাড়া পড়াশোনা ব্যাহত হওয়া, পরীক্ষার সেশনজট আর নিরাপত্তার ভয়ে ঘরবন্দি জীবন তাদের মানসিক বিকাশেও বিরূপ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যারা এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তাদের উৎকণ্ঠা অন্যদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। প্রস্তুতি যত ভালোই হোক, বারবার সময়সূচি পরিবর্তন আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দেয়।
শিক্ষার্থীরাও বলছে, স্বাভাবিক ক্লাস বন্ধ থাকলে অনলাইন বা স্বশিক্ষায় পড়া হলেও সেই পরিবেশ-প্রেরণা থাকে না। অনেক সময় গণপরিবহন না চলা বা রাস্তায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তাদের বাইরে বের হওয়াকেও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। এতে শুধু শিক্ষা নয়, সহশিক্ষা, বন্ধুত্ব, সামাজিকীকরণ সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম চালু রাখার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রয়োজন। জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ক্লাস, অনলাইন ব্যবস্থা, নিরাপদ পরিবহন এসবকে আগে থেকে প্রস্তুত রাখা দরকার। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও অনুরোধ যে কোনো আন্দোলন বা কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা যেন অগ্রাধিকার পায়।
অভিভাবকদের প্রত্যাশা মাত্র একটাই এই অস্থিরতার মধ্যেও যেন তাদের সন্তানের শিক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কারণ একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে বর্তমান প্রজন্মের ওপর, আর সেই ভবিষ্যৎকে অস্থিরতার মাঝে আটকে রাখা কারও কাম্য নয়।

Leave a Reply